কারেন্ট, ভোল্টেজ ও রেজিস্ট্যান্স এর বিস্তারিত । Basic Electricity Bangla
কারেন্ট, ভোল্টেজ ও রেজিস্ট্যান্স এর বিস্তারিত । Basic Electricity Bangla
আজ আমরা ইলেকট্রিক্যাল সাবজেক্টের বেসিক ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় সম্পর্কে জানবো। আলোচনা শেষে আমরা জানতে পারবো,
  • কারেন্ট কি
  • অ্যাম্পিয়ার কি
  • অ্যাম্পিয়ারের আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা
  • কুলম্ব কি
  • বৈদ্যুতিক বিভব কি
  • বিভব পার্থক্য কি
  • ভোল্ট কি
  • ভোল্টের আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা
  • ভোল্টেজ কি
  • রোধ বা রেজিস্ট্যান্স কি
  • ওহমের আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা
  • অ্যাভোমিটার কি
  • বিদ্যুৎ−চালক শক্তি কি
  • বিভব পার্থক্য ও বিদ্যুৎ−চালক শক্তির মধ্যে পার্থক্য
  • বেশ কিছু ইলেকট্রিক্যাল রাশি, প্রতীক, একক, পরিমাপক যন্ত্র ও সংযোগ পদ্ধতির তালিকা

কারেন্ট ː কোনাে বৈদ্যুতিক সার্কিটের মধ্য দিয়ে নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে পরিমাণ ইলেকট্রন বা চার্জ প্রবাহিত হয় তাকে কারেন্ট বলে।
কারেন্ট, I = Q / t.
এখানে, Q = চার্জের পরিমাণ, t = সময় ।


একক ː কারেন্টের একক তিনটি। যথা―
(১) সি.জি.এস e.s.u একক ; 1.e.s.u কারেন্ট = 3.33 x 10⁻¹⁰ অ্যাম্পিয়ার।
(২) সি. জি. এস e.m.u একক ; 1 e.m.u = 10 অ্যাম্পিয়ার।
(৩) S.I একক ; S.I ইউনিটে কারেন্টের একক অ্যাম্পিয়ার। ফ্রান্সের বিজ্ঞানী আন্দ্রে মেরী অ্যাম্পিয়ারের নামানুসারে এর একক Ampere (অ্যাম্পিয়ার) হয়েছে।
পরিমাপক যন্ত্র ː অ্যামিটার - Ammeter (বর্তনীতে সিরিজে সংযােগ করা হয়)।

কারেন্ট, ভোল্টেজ ও রেজিস্ট্যান্স এর বিস্তারিত । Basic Electricity Bangla

অ্যাম্পিয়ার ː কোনাে পরিবাহীর মধ্য দিয়ে 1 সেকেন্ডে 1 কুলম্ব চার্জ প্রবাহিত হলে উক্ত পরিবাহীর মধ্য দিয়ে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, তাকে এক অ্যাম্পিয়ার বলে।

অ্যাম্পিয়ারের আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা ː কোনাে সিলভার নাইট্রেট (AgNO₃) লবণের দ্রবণে 1 সেকেন্ড ধরে যে পরিমাণ কারেন্ট প্রবাহিত করলে 0.001118 গ্রাম সিলভার (রুপা) বিশ্লিষ্ট হয় উক্ত কারেন্টকে এক আন্তর্জাতিক অ্যাম্পিয়ার বলে।

কুলম্ব ː কোনাে পরিবাহীর মধ্য দিয়ে 1 সেকেন্ডে 1 অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট প্রবাহিত হলে উক্ত সময়ে যে পরিমাণ চার্জ প্রবাহিত হয় তাকে 1 কুলম্ব বলে।

বৈদ্যুতিক বিভব ː অসীম দূরত্ব থেকে বা কোনাে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের বাহির থেকে একটি একক পজেটিভ চার্জকে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের যেকোনাে বিন্দুতে আনিতে যে পরিমাণ কাজ করা হয় তাকে উক্ত ক্ষেত্রের দরুন ঐ বিন্দুর বৈদ্যুতিক বিভব বা ইলেকট্রিক পটেনশিয়াল বলে।

বিভব পার্থক্য ː একক পজেটিভ চার্জকে একটি বৈদ্যুতিক বর্তনীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আনতে যে পরিমাণ কাজ করা হয় তাকে বিভব পার্থক্য বলে।

ভোল্ট ː অসীম দূর হতে 1 কুলম্ব পজেটিভ চার্জকে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের কোনাে বিন্দুতে আনতে যদি 1 জুল কাজ করতে হয় তবে ঐ বিন্দুর বিভবকে 1 ভােল্ট (Volt) বলে।

ভােল্টের আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা ː 20°C তাপমাত্রায় ওয়েস্টন ক্যাডমিয়াম স্ট্যান্ডার্ড সেলের বিদ্যুৎ-চালক বলের (E.M.F.) 1/0.0183 অংশকে আন্তর্জাতিক হিসেবে এক ভােল্ট বলে।
1 আন্তর্জাতিক ভােল্ট = 1.00034 ভােল্ট।

ভােল্টেজ ː ভোল্টেজ হলো বিদ্যুৎ চাপ। কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্রবাহের জন্য উহার দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যকে ভোল্টেজ বলে। অন্য কথায়, পরিবাহীর পরমাণুগুলো ইলেকট্রনসমূহকে স্থানচ্যুত করতে যে বল বা চাপের প্রয়োজন হয় তাকে ভোল্টেজ বলে।
ভােল্টেজ, V = IR.
এখানে, I = কারেন্ট, R = পরিবাহীর রােধ ।

ভােল্টেজের একক ː S.I একক ভােল্ট (Volt)।
ভােল্টেজের এককও 3 টি। যথা―
(১) C.G.S e.s.u বিভব = 300 ভােল্ট = 3 x 10¹⁰ emu
(২) C.G.S e.m.u. বিভব = 10⁻⁸ ভােল্ট
(৩) S.I একক
পরিমাপক যন্ত্র ː ভােল্টমিটার - Voltmeter(বর্তনীতে প্যারালালে সংযােগ করা হয়)।

রোধ বা রেজিস্ট্যান্স ː পরিবাহী কারেন্ট প্রবাহের পথে যে বাধার সৃষ্টি করে তাকে রােধ বা রেজিস্ট্যান্স বলে।
রোধ, R = V / I.
এখানে, V = বিভব পার্থক্য, I = কারেন্ট ।

রােধের একক ː ওহম (ohm Ω)
পরিমাপক যন্ত্রের নাম ː ওহম মিটার - ohm meter (সাপ্লাই বিহীন অবস্থায় প্যারালালে সংযোগ করতে হয়)।

ওহমের আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা ː শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় 1.063 সেন্টিমিটার উচ্চতা এবং 14.4521 গ্রাম ভরবিশিষ্ট পারদ কলামের রেজিস্ট্যান্সকে 1 আন্তর্জাতিক ওহম বলে।
1 আন্তর্জাতিক ওহম = 1.00049 ওহম।


কারেন্ট, ভোল্টেজ ও রেজিস্ট্যান্স এর বিস্তারিত । Basic Electricity Bangla


অ্যাভোমিটার ː যে পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে অ্যাম্পিয়ার (Ampere), ভোল্ট (Volt) এবং ওহম (Ohm) তিনটিই পরিমাপ করা যায় তাকে অ্যাভােমিটার (Avometer) বলে।

বিদ্যুৎ-চালক শক্তি বা তড়িচ্চালক শক্তি ː কোনো তড়িৎ উৎস একক ধনাত্মক আধানকে বর্তনীর এক বিন্দু থেকে উৎসসহ সম্পূর্ণ বর্তনী ঘুরিয়ে আবার ঐ বিন্দুতে আনতে যে পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করে, তথা উৎস যে তড়িৎ শক্তি ব্যয় করে তাকে ঐ উৎসের বিদ্যুৎ-চালক শক্তি বা তড়িচ্চালক শক্তি বা ইলেকট্রোমোটিভ ফোর্স বা ই.এম.এফ বলে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, যে বৈদ্যুতিক বলের কারণে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে ইলেকট্রন প্রবাহিত হয়, তাকে বিদ্যুৎ−চালক শক্তি বলে।

নিচে বিভব পার্থক্য ও বিদ্যুৎ−চালক শক্তি এর মধ্যে পার্থক্য দেওয়া হলো ː
বিভব পার্থক্য ‌‌(Potential Difference)
১। একক পজেটিভ চার্জকে একটি বৈদ্যুতিক বর্তনীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আনতে যে পরিমাণ কাজ করা হয় তাকে বিভব পার্থক্য বলে।
২। বিভব পার্থক্য বৈদ্যুতিক বর্তনীর যেকোনো দুই বিন্দুর মধ্যে ইলেকট্রন বা বিদ্যুৎ চালনা করে।
৩। বিভব পার্থক্য বিদ্যুৎ-চালক শক্তির ফল।
৪। বর্তনীর যেকোনো অংশের বিভব পার্থক্যের মান বিদ্যুৎ-চালক শক্তির মানের চেয়ে কম হয়।
৫। বর্তনীর দুই বিন্দুর মধ্যে বিভব পার্থক্য ওই দুই বিন্দুর রোধের উপর নির্ভর করে।

বিদ্যুৎ-চালক শক্তি ‌‌(ElectroMotive Force)
১। ব্যাটারীর দুই টার্মিনাল বা জেনারেটরের দুই টার্মিনালের মধ্যে সৃষ্ট বিভব পার্থক্যকে বিদ্যুৎ-চালক শক্তি বলা হয়।
২। বিদ্যুৎ-চালক শক্তি ব্যাটারী বা জেনারেটরের ভিতরে ও বাহিরে বিদ্যুৎ চালনা করে।
৩। বিদ্যুৎ-চালক শক্তিকে বিভব পার্থক্যের কারণ বলা হয়।
৪। বর্তনীর বিদ্যুৎ-চালক শক্তির মান বিভব পার্থক্যের মানের চেয়ে বেশি হয়।
৫। বিদ্যুৎ-চালক শক্তির বর্তনীর রোধের উপর নির্ভর করে না।

কারেন্ট, ভোল্টেজ ও রেজিস্ট্যান্স এর বিস্তারিত । Basic Electricity Bangla

কয়েকটি ইলেকট্রিক্যাল রাশির নাম, একক, পরিমাপক যন্ত্র এবং এদের সংযোগের পদ্ধতি নিচে উল্লেখ করা হলো―
ভোল্টেজ
প্রতীক ː V
একক ː ভোল্ট (Volt)
পরিমাপক ː ভোল্টমিটার
সংযোগ পদ্ধতি ː প্যারালাল.
কারেন্ট
প্রতীক ː I
একক ː অ্যাম্পিয়ার (Ampere)
পরিমাপক ː অ্যামিটার
সংযোগ পদ্ধতি ː সিরিজ.
রোধ
প্রতীক ː R
একক ː ওহম (ohm, Ω)
পরিমাপক ː ওহম মিটার
সংযোগ পদ্ধতি ː প্যারালাল (সাপ্লাই বিহীন অবস্থায়).
পাওয়ার
প্রতীক ː P
একক ː ওয়াট (Watt)
পরিমাপক ː ওয়াট মিটার
সংযোগ পদ্ধতি ː C.C. সিরিজে, P.C. প্যারালালে.
শক্তি
প্রতীক ː E
একক ː কিলোওয়াট-আওয়ার (kiloWatt−hour, kWh)
পরিমাপক ː কিলোওয়াট‌‌-আওয়ার মিটার বা এনার্জি মিটার
সংযোগ পদ্ধতি ː C.C. সিরিজে, P.C. প্যারালালে.
ইন্ডাক্ট্যান্স
প্রতীক ː L
একক ː হেনরী (Henry, H)
পরিমাপক ː ইন্ডাক্ট্যান্স মিটার
সংযোগ পদ্ধতি ː প্যারালালে.
ক্যাপাসিট্যান্স
প্রতীক ː C
একক ː ফ্যারাড (Farad, F)
পরিমাপক ː ক্যাপাসিট্যান্স মিটার
সংযোগ পদ্ধতি ː C.C. সিরিজে, P.C. প্যারালালে.
পাওয়ার ফ্যাক্টর
প্রতীক ː P.f.
একক ː (একক হয় না)
পরিমাপক ː পাওয়ার ফ্যাক্টর মিটার
সংযোগ পদ্ধতি ː প্যারালালে.
চুম্বকীয় ফ্লাক্স
প্রতীক ː Փ
একক ː ওয়েবার (weber)
পরিমাপক ː ফ্লাক্স মিটার
সংযোগ পদ্ধতি ː প্যারালালে.
চার্জ
প্রতীক ː Q
একক ː কুলম্ব (coulomb)
পরিমাপক ː চার্জ মিটার
সংযোগ পদ্ধতি ː সিরিজে.
ফ্রিকুয়েন্সি
প্রতীক ː f
একক ː হার্জ (Hertz) বা সাইকেল/সেকেন্ড
পরিমাপক ː ফ্রিকুয়েন্সি মিটার
সংযোগ পদ্ধতি ː প্যারালালে.

সহযোগিতায় : বেসিক ইলেকট্রিসিটি ( টেকনিক্যাল এবং হক প্রকাশনী), ওয়েবসাইট

Post a Comment

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো