পরিবাহী, অপরিবাহী ও অর্ধপরিবাহীর বিস্তারিত । Basic Electricity Bangla
পরিবাহী, অপরিবাহী ও অর্ধপরিবাহীর বিস্তারিত । Basic Electricity Bangla
আজ আমরা পরিবাহী, অর্ধপরিবাহী এবং অপরিবাহী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। আলোচনা শেষে আমরা জানতে পারবো,
  • সহজ ভাষায় পরিবাহী, অপরিবাহী ও অর্ধপরিবাহী কি
  • মুক্ত ইলেকট্রন কি
  • বদ্ধ ইলেকট্রন কি
  • ভ্যালেন্স ইলেকট্রন কি
  • ইলেকট্রন তত্ত্ব অনুযায়ী পরিবাহী, অপরিবাহী ও অর্ধপরিবাহীকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়
  • ইলেকট্রন তত্ত্ব অনুযায়ী পরিবাহী, অপরিবাহী ও অর্ধপরিবাহীর ব্যাখ্যা
  • কারেন্ট প্রবাহের অভিমুখ

সহজ ভাষায় পরিবাহী, অপরিবাহী ও অর্ধপরিবাহী

পরিবাহী ː যে সকল পদার্থের মধ্যে দিয়ে অতি সহজে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে, খুব কম পরিমাণ বাধার সম্মুখীন হয়, সেগুলোকে পরিবাহী বা কন্ডাক্টর বলে। যেমন: রুপা, তামা ইত্যাদি।
অপরিবাহী ː যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে না, প্রচণ্ড বাধার সম্মুখীন হয়, তাদেরকে অপরিবাহী বা ইনসুলেটর বা অন্তরক বলে। যেমন- রাবার, কাঁচ ইত্যাদি।
অর্ধপরিবাহী ː যে সমস্ত পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী ও অপরিবাহীর মাঝামাঝি, সে সমস্ত পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বলা হয়। যেমন: সিলিকন, কার্বন ইত্যাদি।

বিদ্যুৎ কি । Basic Electricity Bangla

ইলেকট্রন তত্ত্ব অনুসারে পরিবাহী, অপরিবাহী ও অর্ধপরিবাহী

মুক্ত ইলেকট্রন ː পরমাণুতে যে ইলেকট্রনগুলাে নিউক্লিয়াসের সাথে খুবই হালকাভাবে সংযুক্ত থাকে, সে ইলেকট্রনগুলােকে মুক্ত ইলেকট্রন বলে। অথবা, পরমাণুর যে সমস্ত ইলেকট্রনসমূহ নিউক্লিয়াসের সঙ্গে অত্যন্ত আলগা বন্ধনে আবদ্ধ থাকে, তাদেরকে মুক্ত ইলেকট্রন বলে। এ হালকাভাবে সংযুক্ত ইলেকট্রনগুলাে ধাতব পদার্থে অধিক হয় এবং লক্ষ্যহীনভাবে এলােমেলাে ঘুরাফেরা করতে থাকে। যার জন্য মুক্ত ইলেকট্রনের সৃষ্টি করে। যে সকল পদার্থে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা বেশি, সে সকল পদার্থই ভাল পরিবাহি বলে বিবেচিত। যেমন- তামার এক ঘন সেন্টিমিটার একটি টুকরােতে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (Room temperature) প্রায় 8.5 x 10²² সংখ্যক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।

ব্যাখ্যা ː ইলেকট্রন প্রবাহই যদি বৈদ্যুতিক কারেন্ট হয়, তবে যে সকল পদার্থে মুক্ত ইলেক্ট্রনের সংখ্যা বেশি, সে সকল পদার্থই পরিবাহী বা কন্ডাকটর। কারণ যখন সামান্য কারণে [যেমনঃ আলাে, চাপ, তাপ, আবেশ] ইলেকট্রনগুলাে উত্তেজিত হয়, তখন মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তাদের নিজস্ব কক্ষপথ ছেড়ে পার্শ্বের পরমাণুর কক্ষপথে স্থান গ্রহণ করে। ফলে অসংখ্য ইলেকট্রনের স্রোত বইতে থাকে এবং এ স্রোতই কারেন্ট। ঐ পদার্থটিকে পরিবাহী বা কনডাকটর বলে।

বদ্ধ ইলেকট্রন ː পরমাণুর যে সমস্ত ইলেকট্রনসমূহ নিউক্লিয়াসের সঙ্গে দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ থাকে, তাদেরকে বদ্ধ ইলেকট্রন বলে।

ভ্যালেন্স ইলেকট্রন ː পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রনসমূহকে ভ্যালেন্স ইলেকট্রন বলে। একটি পরমাণুর সবচেয়ে বহিঃস্থ সেলে সর্বোচ্চ আটটি (8 টি) ইলেকট্রন থাকতে পারে। কোনাে পদার্থ ধাতু কিংবা অধাতু, তা ভ্যালেন্স ইলেকট্রন দ্বারা নির্ণয় করা যায়। এ ইলেকট্রনসমূহ পদার্থের বৈদ্যুতিক ধর্মও নির্ধারণ করে।

পরিবাহী ː ইলেকট্রন তত্ত্ব অনুযায়ী, যে সকল পদার্থের পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রনের সংখ্যা 4 এর কম হয়, ঐ সকল পদার্থসমূহকে পরিবাহী বলে। যেমন: কপার, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি।

অপরিবাহী ː ইলেকট্রন তত্ত্ব অনুযায়ী, যে সকল পদার্থের পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রনের সংখ্যা 4 থেকে 8 এর মধ্যে হয়, ঐ সকল পদার্থসমূহকে অপরিবাহী বলে। যেমন: ক্লোরিন, নিয়ন ইত্যাদি।

অর্ধপরিবাহী ː ইলেকট্রন তত্ত্ব অনুযায়ী, যে সকল পদার্থের পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রনের সংখ্যা 4 হয়, ঐ সকল পদার্থসমূহকে পরিবাহী বলে। যেমন: কপার, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি।
অর্ধপরিবাহী দুই ধরনের। যথা―
১। বিশুদ্ধ বা নির্ভেজাল সেমি কন্ডাক্টর: জার্মেনিয়াম, সিলিকন।
২। ভেজালযুক্ত সেমি কন্ডাক্টর: বোরন, ফসফরাস, গ্যালেনিয়াম।

বিদ্যুৎ কি । Basic Electricity Bangla

পরিবাহী, অপরিবাহী এবং অর্ধপরিবাহির ইলেকট্রন তত্ত্বের ব্যাখ্যা

পরিবাহী ː পরিবাহী পদার্থের পরমাণুতে ভ্যালেন্স ইলেকট্রনের সংখ্যা খুব কম (4 এর নিচে) থাকার কারণে এদের উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ বল খুব কম হয়। ফলে ইলেকট্রনগুলাে খুব সহজেই এক পরমাণু হতে অন্য পরমাণুতে স্থানান্তরিত হতে পারে। আবার যেহেতু ইলেকট্রন প্রবাহের হারকেই কারেন্ট বলে, সুতরাং পরিবাহী পদার্থের মধ্যে দিয়ে খুব সহজেই কারেন্ট প্রবাহিত হতে পারে। যেমন- তামা, রূপা, সােনা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি এই শ্রেণিতে অন্তর্গত।

অপরিবাহী ː অপরিবাহী পদার্থের পরমাণুতে ভ্যালেন্স ইলেকট্রনের সংখ্যা বেশি (4 এর উপরে) থাকার কারণে এদের উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ বল খুব বেশি হয়। ফলে ইলেকট্রনগুলো এক পরমাণু হতে অন্য পরমাণুতে স্থানান্তরিত হতে প্রচন্ড বাধার সম্মুখীন হয়। কাজেই অপরিবাহী পদার্থের মধ্য দিয়ে সাধারণ তাপমাত্রায় কোন কারেন্ট প্রবাহিত হতে পারে না। যেমন কাঁচ, রাবার, শুকনাে কাঠ, প্লাস্টিক, মাইকা ও ইত্যাদি এই শ্রেণির অন্তর্গত।

অর্ধ-পরিবাহী ː এ জাতীয় পদার্থের পরমাণুতে ভ্যালেন্স ইলেকট্রনের সংখ্যা পরিবাহী ও অপরিবাহী দু'এর মাঝামাঝি অর্থাৎ 4 হয়। ফলে ইলেকট্রন গুলাে এক পরমাণু হতে অন্য পরমাণুতে স্থানান্তর হতে আংশিকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়। একারণে এদেরকে অর্ধ-পরিবাহী (Semi-Conductor) বলে। যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, কার্বন ইত্যাদি এই শ্রেণিতে পড়ে।

বিদ্যুৎ কি । Basic Electricity Bangla

কারেন্ট প্রবাহের অভিমুখ
যে দিকে ইলেকট্রন প্রবাহিত হয়, নীতিগতভাবে সে দিকেই কারেন্ট প্রবাহের দিক বা অভিমুখ হওয়া উচিৎ। কিন্তু প্রথাগত বা রীতিগতভাবে কারেন্ট প্রবাহের অভিমুখ ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকেই ধরা হয়। প্রথাগতভাবে প্রচলিত নিয়মানুযায়ী, পজেটিভ প্রান্ত হতে পজেটিভ বিদ্যুৎ নেগেটিভ প্রান্তে প্রবাহিত হওয়ার নামই কারেন্ট। কারেন্ট প্রবাহের এই ধারণাকে কনভেনশনাল কারেন্ট প্রবাহ বলে। এই ধারণা যুক্তরাষ্ট্র বাদে বিশ্বের সকল স্থানেই অনুসরণ করা হয়।

ইলেকট্রন থিওরী অনুযায়ী ইলেকট্রন প্রবাহের দিককেই কারেন্ট প্রবাহের দিক ধরা হয়। এক্ষেত্রে, কারেন্ট প্রবাহের অভিমুখ ব্যাটারির নেগেটিভ প্রান্ত হতে বহির্সার্কিটের মধ্য দিয়ে পজেটিভ প্রান্তের দিকে।

সহযোগিতায়: বেসিক ইলেকট্রসিটি (হক এবং টেকনিক্যাল প্রকাশনী), ওয়েবসাইট

Post a Comment

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো