ইলেকট্রিক সার্কিটের গঠন ও প্রকারভেদ । Basic Electricity Bangla
ইলেকট্রিক সার্কিটের গঠন ও প্রকারভেদ । Basic Electricity Bangla
আজ আমরা আলোচনা করবো বৈদ্যুতিক বর্তনী বা ইলেকট্রিক সার্কিট সম্পর্কে। আলোচনা শেষে আমরা জানতে পারবো,
  • ইলেকট্রিক সার্কিট বা বৈদ্যুতিক বর্তনী কি
  • ইলেকট্রিক সার্কিটের উপাদানসমূহ
  • বৈদ্যুতিক সোর্স কি
  • বৈদ্যুতিক লোড কি
  • পরিবাহী কি
  • নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র কি
  • রক্ষণ যন্ত্র কি
  • ইলেকট্রিক সার্কিটের প্রকারভেদ
  • সিরিজ সার্কিট কি
  • প্যারালাল সার্কিট কি
  • মিশ্র সার্কিট কি

ইলেকট্রিক সার্কিট বা বৈদ্যুতিক বর্তনী
বৈদ্যুতিক বর্তনী হলাে একটি আবদ্ধ পথ, যে পথের মধ্য দিয়ে উৎস বা সাের্স হতে কারেন্ট বের হয়ে বিভিন্ন রোধ অতিক্রম করে পুনরায় সাের্সে ফিরে আসে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, কারেন্ট প্রবাহের অবিচ্ছিন্ন পথকে বৈদ্যুতিক বর্তনী (Electric circuit) বলে। অথবা, যে পথ দিয়ে ইলেকট্রিক কারেন্ট প্রবাহিত হতে পারে তাকে ইলেকট্রিক সার্কিট বলে।

ইলেকট্রিক সার্কিটের উপাদান
একটি আদর্শ ইলেকট্রিক সার্কিটের নিম্নলিখিত অংশ রয়েছে। যথা-

(১) বৈদ্যুতিক সাের্স (Electric Source) ː ব্যাটারী, জেনারেটর ।
(২) বৈদ্যুতিক লােড (Electric Load) ː বাতি, ফ্যান, মটর ।
(৩) পরিবাহী (Conductor) ː তামা, অ্যালুমিনিয়াম ।
(৪) নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (Controlling Device) ː সুইচ, ভােল্টেজ রেগুলেটর ।
(৫) রক্ষণ যন্ত্র (Protective Device) ː ফিউজ, সার্কিট ব্রেকার।

 ইলেকট্রিক সার্কিটের গঠন ও প্রকারভেদ । Basic Electricity Bangla
ইলেকট্রিক সার্কিটের গঠন ও প্রকারভেদ । Basic Electricity Bangla
(১) বৈদ্যুতিক সাের্স (Electric Source) ː যে ডিভাইস বা যন্ত্রের সাহায্যে বিদ্যুচ্চালক বল (EMF) উৎপন্ন করে বৈদ্যুতিক বর্তনীতে প্রয়ােগ করা হয়, যার ফলে কারেন্ট প্রবাহিত হয় তাকে বৈদ্যুতিক সাের্স বলে । যেমন- ব্যাটারি, ডিসি জেনারেটর, এসি জেনারেটর ইত্যাদি।

(২) বৈদ্যুতিক লােড (Electric Load) ː যে সকল যন্ত্রের বা ডিভাইসের মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্রবাহের ফলে কোনাে না কোনাে কাজ পাওয়া যায় তাদেরকে বৈদ্যুতিক লােড বলে । যেমন- বাতি থেকে আলাে, পাখা থেকে বাতাস, হিটার থেকে তাপ, বৈদ্যুতিক বেল থেকে শব্দ ইত্যাদি পাওয়া যায়। উল্লিখিত দ্রব্যাদিকে বৈদ্যুতিক লােড (Electric Load) বলে।

(৩) পরিবাহী (Conductor) ː বৈদ্যুতিক বর্তনীর বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে পারস্পরিক সংযােগ দেওয়ার জন্য যে পরিবাহী পদার্থ ব্যবহার করা হয় তাকে পরিবাহী বা তার বলে । এ তার সাধারণত তামা বা অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হয়ে থাকে। তারের ওপর আবার বিভিন্ন প্রকার ইনসুলেশন দেওয়া হয়।

(৪) নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (Controlling Device) ː যে সকল যন্ত্রের সাহায্যে আমরা বিদ্যুৎ শক্তি ইচ্ছামতাে নিয়ন্ত্রণ করে ব্যবহার করতে পারি তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বলে । যেমন- সুইচ, ভােল্টেজ রেগুলেটর, স্ট্যাবিলাইজার। সুইচের সাহায্যে সার্কিট ইচ্ছামতাে off/on করা হয়, রেগুলেটরের সাহায্যে সুবিধামতাে কম বেশি ভােল্টেজ ব্যবহার করতে পারি এবং স্ট্যাবিলাইজারের সাহায্যে লােডের ভােল্টেজ স্থির রাখতে পারি ।

(৫) রক্ষণ যন্ত্র (Protective Device) ː যে সকল যন্ত্রের সাহায্যে বৈদ্যুতিক বর্তনীকে শর্ট সার্কিট, বেশি ভোল্টেজ, বেশি কারেন্টজনিত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করা যায়, তাদেরকে রক্ষণ যন্ত্র বলে । যেমন- সার্কিট ব্রেকার, ফিউজ, আইসােলেটর, রিলে ইত্যাদি।

ইলেকট্রিক সার্কিটের গঠন ও প্রকারভেদ । Basic Electricity Bangla

ইলেকট্রিক সার্কিটের প্রকারভেদ
ইলেকট্রিক সার্কিটকে মূলত ৩ (তিন) ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-

(১) সিরিজ সার্কিট (Series Circuit),
(২) প্যারালাল সার্কিট (Parallel Circuit) ও
(৩) সিরিজ প্যারালাল বা মিশ্র সার্কিট (Series Parallel or Mixed Circuit)।

(১) সিরিজ সার্কিট (Series Circuit) ː যদি একাধিক রােধকে এমনভাবে সংযােগ করা হয় যে, প্রথম রােধের শেষ প্রান্তের সাথে দ্বিতীয় রােধের প্রথম প্রান্ত, দ্বিতীয় রােধের শেষ প্রান্তের সাথে তৃতীয় রােধের প্রথম প্রান্ত ইত্যাদি পর পর অনুরূপভাবে সংযুক্ত থাকে এবং প্রত্যেক রােধে একই কারেন্ট প্রবাহিত হয় তবে রােধের এ ধরনের সংযােগকে সিরিজ সংযােগ বলে।

সিরিজ সার্কিটের সুবিধা
  • একটিমাত্র সুইচ দ্বারা সিরিজ সার্কিটের সকল লোড নিয়ন্ত্রণ করা যায়। একটিমাত্র সুইচ অন করলে প্রতিটি লােড (বাতি) চালু হবে।
  • কম কারেন্ট প্রবাহিত হয়, ফলে ব্যাটারি বা সেল সহজে ডিসচার্জ হয় না।

সিরিজ সার্কিটের অসুবিধা
  • একটি বাতি বা লােড বিচ্ছিন্ন হলে বা কেটে গেলে প্রতিটি বাতি বা লােড অফ (Off) হয়ে যায়।
  • সিরিজ সার্কিটে ভােল্টেজ ভাগ হওয়ার কারণে লােড বা বাতিগুলাে পূর্ণ ক্ষমতানুসারে চলতে পারে না।
  • লােডগুলাে আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।

সিরিজ সার্কিটের ব্যবহার
  • রেলওয়ে স্টেশনে রাত্রে লাইটিং-এর জন্য সিরিজ সার্কিট ব্যবহার করা হয়।
  • গানের প্যাণ্ডেলে বা যেকোনাে আলােকসজ্জার কাজে সিরিজ সার্কিট ব্যবহৃত হয়।

ইলেকট্রিক সার্কিটের গঠন ও প্রকারভেদ । Basic Electricity Bangla

(২) প্যারালাল সার্কিট (Parallel Circuit) ː যদি একাধিক রােধের ১ম প্রান্তগুলাে একটি বিন্দুতে এবং ২য় প্রান্তগুলাে অপর একটি বিন্দুতে এমনভাবে যুক্ত হয় যে, প্রতিটি রোধের দুই প্রান্তে একই বিভব পার্থক্য কাজ করে এবং প্রতিটি রােধে কারেন্ট ভাগ হয়ে যায় তাকে রােধের প্যারালাল সংযােগ বলে।

প্যারালাল সার্কিটের সুবিধা
  • প্রতিটি লােড বা রােধ বা বাতি পৃথক পৃথক সুইচ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • সার্কিটের একটি বাতি বা লোড কেটে গেলে অন্যান্য লােডগুলাে ঠিকমতাে চালু থাকে।
  • প্রত্যেকটি লােডের ভােল্টেজ সরবরাহ ভােল্টেজের সমান থাকে বলে লোডগুলাে পূর্ণ ক্ষমতা সহকারে চলতে পারে।

প্যারালাল সার্কিটের অসুবিধা
  • প্রতিটি লোডের জন্য পৃথক পৃথক সুইচ লাগে বিধায় ব্যয়বহুল।
  • লোড যত বৃদ্ধি পায় কারেন্ট তত বেশি টানে বিধায় ব্যাটারি বা সেল দ্রুত ডিসচার্জ হয়ে পড়ে।

প্যারালাল সার্কিটের ব্যবহার
  • আবাসিক গৃহে, অফিস-আদালতে, কল-কারখানা ইত্যাদি এক কথায় প্রায় সকল ক্ষেত্রেই প্যারালাল সার্কিটের ব্যবহার দেখা যায়।
  • যেসব জায়গায় লােড ভােল্টেজ সমান থাকা প্রয়ােজন, সেইসব জায়গাগুলােতে লােডগুলাে পূর্ণ ক্ষমতা সহকারে চালানাের জন্য প্যারালাল সার্কিট ব্যবহার করা হয়।


(৩) সিরিজ প্যারালাল বা মিশ্র সার্কিট (Series Parallel or Mixed Circuit) ː দুই বা ততােধিক রোধ প্যারালালে যুক্ত করে একটি ইউনিট তৈরি করে অন্য প্যারালাল গ্রুপের সাথে সিরিজ সংযোগ করে মিশ্র সার্কিট তৈরি করা যায়। আবার দুই বা ততােধিক রােধ সিরিজে সংযোগ করে অপরাপর প্যারালাল গ্রুপের সাথে সিরিজে বা প্যারালালে সংযােগ করে মিশ্র সার্কিট তৈরি করা যায়।

ইলেকট্রিক সার্কিটের গঠন ও প্রকারভেদ । Basic Electricity Bangla

সিরিজ ও প্যারালাল সার্কিটের মধ্যে পার্থক্য

সিরিজ সার্কিট
১। সিরিজ সার্কিটের সকল লোড একটিমাত্র সুইচ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় ।
২। একটি লোড বিচ্ছিন্ন হলে সকল লোড বিচ্ছিন্ন (Off) হয়ে যায়।
৩। কারেন্ট কম প্রবাহিত হয়।
৪। সিরিজে বাতিগুলো কম ভোল্টেজ পায় বিধায় বাতিগুলো পূর্ণ ক্ষমতানুসারে জ্বলতে পারে না।
৫। লোড যত বৃদ্ধি পায়, কারেন্ট তত কম প্রবাহিত হয় । তাই সেল (Cell) বা ব্যাটারী দ্রুত ডিসচার্জ হয় না ।
৬। অতিরিক্ত সাপ্লাই ভোল্টেজে সিরিজ সার্কিটের তেমন ক্ষতি হয় না ।
৭। এর ব্যবহার ক্ষেত্র সীমিত ।

প্যারালাল সার্কিট
১। প্যারালাল সার্কিটের প্রতিটি লোডকে পৃথক পৃথক সুইচ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় ।
২। একটি লোড বিচ্ছিন্ন হলে অন্যান্য লোডগুলো চালু (On) থাকে ।
৩। কারেন্ট বেশি প্রবাহিত হয় ।
৪। প্রতিটি বাতি পূর্ণ ভোল্টেজ পায় বিধায় পূর্ণ ক্ষমতানুসারে জ্বলতে পারে ।
৫। লোড বৃদ্ধি পেলে কারেন্ট বৃদ্ধি পায় । তাই সেল (Cell) বা ব্যাটারী দ্রুত ডিসচার্জ হয়ে যায় ।
৬। অতিরিক্ত সাপ্লাই ভোল্টেজে লোডগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি ।
৭। প্রায় সর্বক্ষেত্রে ব্যবহার দেখা যায় ।

সহযোগিতায় : বেসিক ইলেকট্রিসিটি ( টেকনিক্যাল এবং হক প্রকাশনী), ওয়েবসাইট

Post a Comment

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো