বিদ্যুৎ কি । Basic Electricity Bangla
বিদ্যুৎ কি । Basic Electricity Bangla
আজ এই মানব সভ্যতার চরম উন্নতির যুগে বিদ্যুতের অবদান সর্বাধিক। তাই আজ আধুনিক যুগকে বিদ্যুতের যুগও বলা হয়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিদ্যুতের ব্যবহার অপরিহার্য। তারই প্রেক্ষাপটে আজ আমরা আলোচনা করবো বিদ্যুৎ নিয়ে। আলোচনা শেষে আমরা জানতে পারবো,
  • বিদ্যুৎ কি
  • বিদ্যুৎ এর প্রকারভেদ
  • চল বিদ্যুৎ এর প্রকারভেদ
  • বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে সৃষ্ট প্রভাব বা ইফেক্ট

বিদ্যুৎ এমন এক অদৃশ্য বল বা শক্তি যা আলো, তাপ, শব্দ, গতি উৎপন্ন করে এবং অসংখ্য বাস্তব কাজ সমাধা করে।
বিদ্যুৎ মূলত দুই প্রকার। যথা―
১। স্থির বিদ্যুৎ,
২। চল বিদ্যুৎ ৷ 

বিদ্যুৎ কি । Basic Electricity Bangla

(১) স্থির বিদ্যুৎ
বৈদ্যুতিক চার্জ যখন উৎপত্তিস্থলেই আবদ্ধ থাকে, চলাচল করতে পারে না তাকে স্থির বিদ্যুৎ বলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই স্থির বিদ্যুৎ ঘর্ষণের ফলে উৎপত্তি হয়। যেমন — একটি কাচদণ্ডকে রেশমি কাপড় দ্বারা ঘষলে কাচদণ্ড হতে ইলেকট্রন রেশমি কাপড়ে চলে যায় – ফলে কাচদণ্ড পজেটিভ চার্জ এবং রেশমি কাপড় নেগেটিভ চার্জ প্রাপ্ত হয়। আবার একটি ইবোনাইট দণ্ডকে এক খণ্ড ফ্লানেল কাপড় বা বিড়ালের চামড়া দ্বারা ঘর্ষণ করলে ইবোনাইট দণ্ড নেগেটিভ চার্জ এবং ফ্লানেল কাপড় পজেটিভ চার্জ প্রাপ্ত হয়। উপরোক্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে এক বস্তু হতে ইলেকট্রন অন্য বস্তুতে স্থানান্তরিত হয় ফলে বস্তুগুলো চার্জ প্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ প্রতিটি বস্তুতে স্থির বিদ্যুতের উৎপত্তি হয়েছে।

(২) চল বিদ্যুৎ
যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন স্থানে স্থির না থেকে আলাে, চাপ, তাপ বা আবেশের কারণে পদার্থের মধ্য দিয়ে ধাবিত হয়, তাকে চল বিদ্যুৎ বলে। যদিও বিদ্যুৎ দুই প্রকার, বিদ্যুৎ বলতে চল বিদ্যুৎকেই বুঝায়।

চল বিদ্যুৎ দুই প্রকার। যথা―
(১) এ.সি. কারেন্ট (Alternating Current বা A.C.),  (২) ডি.সি. কারেন্ট (Direct Current বা D.C.)।

১। এ.সি. কারেন্ট ː পরিবর্তী প্রবাহ সময়ের সাথে যে কারেন্টের মান ও দিক উভয়েরই পরিবর্তন ঘটে, তাকে এ.সি. বা অল্টারনেটিং কারেন্ট বলে।     

২। ডি.সি. কারেন্ট ː একমুখী  প্রবাহ সময়ের সাথে যে কারেন্টের মান ও দিক কোনোটিই পরিবর্তিত হয় না, তাকে ডি.সি. বা ডাইরেক্ট কারেন্ট বলে। 

বিদ্যুৎ কি । Basic Electricity Bangla

বিদ্যুৎ প্রবাহে সৃষ্ট প্রভাব
বৈদ্যুতিক কারেন্ট প্রবাহের ফলে নিম্নলিখিত ফলাফল বা ইফেক্ট-এর সৃষ্টি হয় ː
(১) তাপীয় প্রভাব (Heating Effect)
(২) চৌম্বকীয় প্রভাব (Magnetic Effect)
(৩) রাসায়নিক প্রভাব (Chemical Effect)
(৪) শারীরবৃত্তীয় প্রভাব (Physiological Effect)

(১) তাপীয় প্রভাব (Heating Effect)কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে পরিবাহী উত্তপ্ত হয়ে ওঠে— একেই বিদ্যুতের তাপীয় প্রভাব বা তাপীয় ফল বলে । এই অবস্থায়  বিদ্যুৎশক্তি তাপশক্তিতে রুপান্তরিত হয় । বিদ্যুৎ প্রবাহের তাপীয় ফলের কয়েকটি প্রয়োগ হচ্ছে বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, বৈদ্যুতিক হিটার, বৈদ্যুতিক কেটলী ইত্যাদি।

(২) চৌম্বকীয় প্রভাব (Magnetic Effect)
কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে ঐ পরিবাহীর চারদিকে ম্যাগনেটিক ফিল্ড বা চৌম্বকক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়- এটিই বিদ্যুতের চৌম্বকীয় প্রভাব। এই অবস্থায় বিদ্যুৎ শক্তি চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বৈদ্যুতিক মটর, ট্রান্সফরমার, বৈদ্যুতিক ঘণ্টা ইত্যাদি বিদ্যুতের ম্যাগনেটিক ইফেক্টের উদাহরণ।

(৩) রাসায়নিক প্রভাব (Chemical Effect)
যদি কোনো যৌগিক পদার্থের দ্রবণে ইলেকট্রিসিটি প্রবাহ করানো হলে উক্ত দ্রবণটি বিশ্লিষ্ট হয়, তবে এই বিশ্লেষণকে বৈদ্যুতিক বিশ্লেষণ বা Electrolysis বলে। অ্যাসিড বা মিশ্রিত পানির মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করালে উক্ত পানি বিশ্লিষ্ট হয়ে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনে রূপান্তরিত হয়, অর্থাৎ বৈদ্যুতিক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এটিই বিদ্যুতের রাসায়নিক প্রভাব বা Chemical Effect. 

বিদ্যুৎ কি । Basic Electricity Bangla

(৪) শরীরবৃত্তীয় প্রভাব (Physiological Effect)
মানুষ বা কোনো জীবন্ত প্রাণীর দেহের মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হলে এক প্রকার যন্ত্রণা অনুভূত হয়। তড়িৎ প্রবাহের মাত্রা খুব বেশি হলে অনেক সময় চোখের নিমিষে যন্ত্রণায় মানুষ বা প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। কারেন্ট প্রবাহের ফলে প্রাণীর দেহের এরূপ প্রতিক্রিয়াকে ইলেকট্রিক শক (Electric Shock) বা তড়িতাঘাত বলে। বাত চিকিৎসায় মেগার নামক যন্ত্রের সাহায্যে ইলেকট্রিক শক কাজে লাগানো হয়।

সহযোগিতায় : বেসিক ইলেকট্রিসিটি ( টেকনিক্যাল এবং হক প্রকাশনী), ওয়েবসাইট

Post a Comment

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো