ক্যাপাসিটর ও ইন্ডাক্টর । Basic Electricity Bangla
ক্যাপাসিটর ও ইন্ডাক্টর । Basic Electricity Bangla
আজ আমরা আলোচনা করবো ক্যাপাসিটর ও ইন্ডাক্টর নিয়ে। আলোচনা শেষে আমরা জানতে পারবো,
  • ক্যাপাসিটর কি
  • ডাই−ইলেকট্রিক কি
  • ইলেকট্রোস্ট্যাটিক শক্তি বা এনার্জি কি
  • ক্যাপাসিট্যান্স কি
  • ক্যাপাসিট্যান্স নির্ণয়ের সূত্র
  • ক্যাপাসিট্যান্সের একক
  • বিভিন্ন প্রকার ক্যাপাসিটর
  • বিভিন্ন ধরনের ফিক্সড ক্যাপাসিটর
  • ক্যাপাসিটরের ব্যবহার
  • ইন্ডাক্টর কি
  • ইন্ডাক্ট্যান্স কি
  • বিভিন্ন প্রকার ইন্ডাক্টর
  • ইন্ডাক্টরের ব্যবহার

ক্যাপাসিটর (Capacitor)
যখন কোনাে দুটি পরিবাহীর পাতকে সমান্তরালভাবে স্থাপন করা হয় এবং এটি অপরিবাহী (Insulator) পদার্থ দ্বারা পৃথক হয় তখন উক্ত প্লেট দুখানির মধ্যে চার্জ সঞ্চয় রাখার ক্ষমতা সৃষ্ট হয়, তখন এই ব্যবস্থাপনাকে ক্যাপাসিটর বল। ক্যাপাসিটরকে কনডেন্সারও বলে।

ডাই-ইলেকট্রিক ː ক্যাপাসিটরের প্লেট দুটিকে ইলেকট্রোড বা প্লেট এবং অপরিবাহী পদার্থকে ডাই-ইলেকট্রিক (Di - Electric) বলে। এই ডাই-ইলেকট্রিকের ওপর নির্ভর করেই ক্যাপাসিটর চার্জ সঞ্চিত করে।

ইলেকট্রোস্ট্যাটিক শক্তি ː কোনাে ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা হয় প্রথমে ইলেকট্রিক এনার্জিকে স্টোর করার জন্য এবং পরে প্রয়ােজনে সেই এনার্জিকে সরবরাহ করার জন্য। ক্যাপাসিটরে সঞ্চিত শক্তিকে ইলেকট্রোস্ট্যাটিক শক্তি (Electrostatic Energy) বলে।

ক্যাপাসিটর ও ইন্ডাক্টর । Basic Electricity Bangla

ক্যাপাসিটেন্স (Capacitance)
ক্যাপাসিটর ইলেকট্রিসিটি সঞ্চয় করে রাখে (Store) অর্থাৎ ধরে রাখে। ক্যাপাসিটরের এই ইলেকট্রসিটি ধারণ করে রাখার ক্ষমতাকে বলা হয় তার ক্যাপাসিটেন্স বা ক্যাপাসিটি (Capacity)। সার্কিটে যুক্ত ক্যাপাসিটর প্রথমে ইলেকট্রিক এনার্জিকে ইলেকট্রিক ফিল্ডের আকারে সঞ্চয় করে এবং পরে প্রয়ােজনে এই এনার্জিকে সার্কিটে মুক্ত করে দেয় (release)।

সহজ ভাষায়, যে ধর্ম বা বৈশিষ্ট্যের জন্য কোনাে ক্যাপাসিটর চার্জ সঞ্চয় করে রাখে উক্ত ধর্ম বা বৈশিষ্ট্যকে ক্যাপাসিটেন্স বলে। 

ক্যাপাসিট্যান্স নির্ণয়ের সূত্র
মনে করি, কোনাে পরিবাহীর ভােল্টেজ "V" পরিমাণ বৃদ্ধি করতে "Q" পরিমাণ চার্জের প্রয়ােজন হয়। অর্থাৎ চার্জ ও ভােল্টেজ পরস্পর সমানুপাতিক।
        ⸫ Q ∝ V
    বা, Q = CV.
এখানে C একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক। একে ক্যাপাসিট্যান্স বলা হয়।
    ⸫ ক্যাপাসিট্যান্স, C = Q/V.

তাহলে বলা যায়, কোনো ক্যাপাসিটরের সঞ্চিত চার্জ এবং এর প্লেটদ্বয়ের মধ্যে বিভব পার্থক্য তথা ভােল্টেজের অনুপাতকে ক্যাপাসিটেন্স বলে।

ক্যাপাসিটেন্স-এর একক
ক্যাপাসিটেন্স পরিমাপের একক হচ্ছে ফ্যারাড (farad) (বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডের নামানুসারে)।

ফ্যারাড: কোনাে ক্যাপাসিটরের দুই প্লেটের মধ্যে এক ভোল্ট পটেনশিয়াল ডিফারেন্স সৃষ্টি করলে যদি এক কুলম্ব চার্জের সৃষ্টি হয়, তাহলে ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিটেন্সকে এক ফ্যারাড বলে।
1 farad = 1 coulomb/Volt.

ব্যবহারিক কাজে ফ্যারাড খুব বড় ইউনিট, তাই ব্যবহারের সুবিধার জন্য এর ভগ্নাংশ করা হয়।ক্যাপাসিটেন্সের বাণিজ্যিক একক হলো মাইক্রোফ্যারাড (microFarad)।
1 ফ্যারাড (F) = 10⁶ মাইক্রোফ্যারাড (µF)
মাইক্রোফ্যারাড (µF) = 1 x 10⁻⁶ F
ন্যানােফ্যারাড (nF) = 1 x 10⁻⁹ F
পিকোফ্যারাড (pF) = 1 x 10⁻¹² F

মাইক্রোফ্যারাড কথাটি বুঝানাের জন্য mFD বা mF বা µF অথবা শুধুই "m" অক্ষর লেখা হয়। আর পিকোফ্যারাড কথাটি বুঝানোর জন্য pF বা শুধুই "p" ব্যবহার করা হয়। ন্যানােফ্যারাডের জন্য nF বা n লেখা হয়। ন্যানোফ্যারাডকে আবার kp বা kPF (Kilo pico farad) আকারেও লেখা হয়।

বিভিন্ন প্রকার ক্যাপাসিটর
পোলারিটির উপর ভিত্তি করে ক্যাপাসিটরকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
১। পোলার ক্যাপাসিটর,
২। নন−পোলার ক্যাপাসিটর।

১। পোলার ক্যাপাসিটর ː এসব ক্যাপাসিটরে পজেটিভ (+) ও নেগেটিভ (-) টার্মিনাল চিহ্নিত করা থাকে। যাতে প্রয়ােগকৃত ভােল্টেজের পজিটিভ (+) ক্যাপাসিটারের পজিটিভ (+) এ সংযােগ করা হয়। কারণ, যদি কখনও এটির সংযােগ উল্টা হয়ে যায় তাহলে ক্যাপাসিটরটি নষ্ট হয়ে যাবে।

২। নন−পোলার ক্যাপাসিটর ː এসব ক্যাপাসিটরে কোনো পজেটিভ (+) ও নেগেটিভ (-) টার্মিনাল থাকে না। তাই, টার্মিনাল−দুটির যেকোনোটিতে পজেটিভ অথবা নেগেটিভ ভোল্টেজ সংযোগ করা যায়।

সমস্ত ক্যাপাসিটরকে প্রধানত দু ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
(১) ভেরিয়েবল কনডেনসার (Variable condenser),
(২) ফিক্সড কনডেনসার (Fixed condenser) ।

(১) ভেরিয়েবল কনডেন্সার: যেসকল কনডেন্সারের মান তৈরী করার সময় সুনির্দিষ্টভাবে দেওয়া থাকে না, প্রয়োজনে মান বাড়িয়ে−কমিয়ে ব্যবহার করা যায়, সেগুলোকে ভেরিয়েবল কনডেন্সার বলা হয়।

(২) ফিক্সড কনডেন্সার: যেসকল কনডেন্সারের মান ফিক্সড (সুনির্দিষ্ট) অর্থাৎ তৈরি করার সময় যাদের মান নির্দিষ্ট থাকে, তাদেরকে ফিক্সড কনডেন্সার বলে।

বিভিন্ন ধরনের ফিক্সড ক্যাপাসিটর
ফিক্সড কনডেনসারকে তাদের ক্যাপাসিটি, আকৃতি এবং তাতে ব্যবহৃত ডাই−ইলেকট্রিকের প্রকৃতি অনুযায়ী সাধারণত আবার কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়। যথা:
১। পেপার কনডেন্সার (Paper condenser)
২। মাইকা কনডেন্সার (Mica condenser)
৩। সিরামিক কনডেন্সার (Ceramic condenser)
৪। পলিয়েস্টার কনডেন্সার (Poleyster condenser)
৫। স্ট্রিলােফ্লেক্স কনডেন্সার (Striloflex condenser)
৬। ইলেকট্রোলাইটিক কনডেন্সার (Electrolytic condenser)
৭। এয়ার কনডেন্সার (Air condenser)

ক্যাপাসিটর ও ইন্ডাক্টর । Basic Electricity Bangla

১। পেপার কনডেন্সার: এটি বহুল প্রচলিত ক্যাপাসিটর। এতে ডাই ইলেকট্রিক হিসেবে পেপার ব্যবহার করা হয়। যার জন্য এর নামকরণ করা হয়েছে পেপার কনডেন্সার। দুটি ধাতব পাতের মাঝে একটা পেপার স্ট্রিপ রেখে একে গোল করে জড়িয়ে তৈরি করা হয়। পেপার স্ট্রিপটা এখানে ইনসুলেটর হিসেবে কাজ করে থাকে। যে সমস্ত পেপার কনডেন্সারকে বেশি ওয়ার্কিং ভোল্টেজের উপযােগী করে তৈরি করা হয়, সেই সমস্ত কনডেন্সারে একাধিক ইনসুলেটিং পেপার ব্যবহার করা হয়। হাই ও লো ভােল্টেজ, দুই সার্কিটেই পেপার কনডেন্সার ব্যবহার করা হয় । সাধারণত পেপার কনডেন্সারের গায়ে তাদের ওয়ার্কিং ভোল্টেজ ও মান লেখা থাকে।

২। মাইকা কনডেন্সার: এ ধরনের কনডেন্সারের ডাই ইলেকট্রিক হিসেবে মাইকা ব্যবহার করা হয়। এ কনডেন্সার হাই হাই ফ্রিকুয়েন্সির সার্কিটেও কাজ করে। মাইকা ও ধাতুর পাতলা পাত পর্যায়ক্রমে সাজিয়ে শক্তভাবে আটকিয়ে এটা তৈরি করা হয়।

 ৩। সিরামিক কনডেন্সার: এ কনডেন্সারে ডাই ইলেকট্রিক হিসেবে সিরামিক ব্যবহার করা হয়। সিরামিকের ডাই ইলেকট্রিক কনস্ট্যান্ট খুব বেশি। তাই তাপমাত্রা ও ভােল্টেজের পরিবর্তন সত্ত্বেও এই কনডেন্সারের স্থিতিশীলতা ঠিক থাকে।

৪। পলিয়েস্টার কনডেন্সার: এই ধরনের কনডেন্সারের আর্দ্রতা প্রতিরােধ ক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা (Stability) অনেক বেশি। এর আকারও অনেক ছােট, দামও কম। এই কনডেন্সার লাে ইন্ডাকটিভিটির অ্যালুমিনিয়াম লেয়ার এবং পলিয়েস্টার কয়েলের সমন্বয়ে তৈরি।

৫। স্ট্রিলােফ্লেক্স কনডেন্সার: স্ট্রিলােফ্লেক্স হচ্ছে ছােট আকারের একটা স্বচ্ছ কনডেনসার। এর ক্ষয়ক্ষতি অর্থাৎ লস কম এবং ফ্রিকুয়েন্সি ক্যারাকটারিস্টিক অসম্ভব বেশি। এদের ওয়ার্কিং ভোল্টেজ 125 ভােল্ট হতে 250 ভােল্ট হয়ে থাকে।

৬। ইলেকট্রোলাইটিক কনডেন্সার: এর ইলেকট্রোড একটি অ্যালুমিনিয়ামের এবং অন্যটি ইলেকট্রোলাইটিং সল্যুয়নের (সাধারণত অ্যামােনিয়া বরিক এসিড ও পানির সংমিশ্রণ) হয়। এ ধরনের ক্যাপাসিটরে পজেটিভ (+) ও নেগেটিভ (-) টার্মিনাল চিহ্নিত করা থাকে। যাতে প্রয়ােগকৃত ভােল্টেজের পজিটিভ (+) ক্যাপাসিটারের পজিটিভ (+) এ সংযােগ করা হয়। কারণ, যদি কখনও এটির সংযােগ উল্টা হয়ে যায় তাহলে ক্যাপাসিটরটি নষ্ট হয়ে যাবে।

৭। এয়ার কনডেন্সার: দুই সেট পিতল বা অ্যালুমিনিয়ামের পাত দ্বারা এই ক্যাপাসিটর তৈরি। একটি দৃঢ় কাঠামােতে (যা অপরিবাহী) এক সেট প্লেট ফাঁক করে সাজিয়ে প্যারালালে সংযুক্ত করা হয়। একইভাবে নির্মিত প্লেটের দ্বিতীয় সেটটি বিয়ারিং সহ একটি Shaft এ বসানাে থাকে। যখন Shaft ঘুরানাে হয়, তখন এর প্লেটগুলাে কাঠামাের প্লেটগুলাের ফাঁকে ফাঁকে ঢুকে যায়। ফলে মােট ক্যাপাসিটেন্স বৃদ্ধি পায়।

ক্যাপাসিটরের ব্যবহার
১। পেপার কনডেন্সারের ব্যবহার: এটা প্রধানত অ্যামপ্লিফায়ার সার্কিটে AF (Audio Frequency) ও পাওয়ার সাপ্লাইয়ে ব্যবহার করা হয়।
২। মাইকা কনডেন্সারের ব্যবহার: এটা উচ্চ ফ্রিকুয়েন্সি সার্কিটে ব্যবহার করা হয়। এটা প্রধানত গ্রাহক ও প্রেরক RF সার্কিটে ব্যবহার করা হয়।
৩। সিরামিক কনডেন্সারের ব্যবহার: এটা টিউনিং সার্কিটে, ডিকাপলিং বাইপাস সার্কিটে এবং কাপলিং করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
৪। পলিয়েস্টার কনডেন্সারের ব্যবহার: এটা কাপলিং, বাইপাস ইত্যাদি সার্কিটে ব্যবহার করা হয়।
৫। স্ট্রিলােফ্লেক্স কনডেন্সারের ব্যবহার: এটা টিউনিং অসিলেটর ও ফ্রিকুয়েন্সি ডিটামিনিং সার্কিটে বেশি ব্যবহার করা হয়।
৬। ইলেকট্রোলাইটিক কনডেন্সারের ব্যবহার: যেসকল স্থানে উচ্চমানের ক্যাপাসিট্যান্স প্রয়োজন, সেই সকল স্থানে এটি ব্যবহৃত হয়। সাধারণত রেকটিফায়ারে ভোল্টেজ তরঙ্গে মৃদু উত্থান-পতন দূরীকরণার্থে এটি ব্যবহৃত হয়।
৭। এয়ার কনডেন্সারের ব্যবহার: রেডিওতে ব্যবহৃত গ্যাং (Gang) ক্যাপাসিটর।

ক্যাপাসিটর ও ইন্ডাক্টর । Basic Electricity Bangla

ইন্ডাক্টর (Inductor)
ইন্ডাক্টর বা আবেশক হচ্ছে পরিবাহী তারের একটি সাধারণ কুণ্ডলী বা কয়েল, যা এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কারেন্টের যে কোন পরিবর্তনকে বাধা প্রদান করে। অর্থাৎ যে ডিভাইস বা কম্পােনেন্ট কারেন্ট প্রবাহের যে কোন পরিবর্তনকে বাধা প্রদান করে, তাকে ইন্ডাক্টর বলে।

ইন্ডাকট্যান্স (Inductance)
ইন্ডাকটরের যে ধর্ম বা বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি কারেন্ট প্রবাহের যে কোন পরিবর্তনকে বাধা প্রদান করে, তাকে ইন্ডাকট্যান্স বলে। ইন্ডাকট্যান্সকে L দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এর একক হেনরি (H)।

বিভিন্ন প্রকার ইন্ডাক্টর
(ক) কাপলড ইন্ডাক্টর,
(খ) মাল্টি লেয়ার ইন্ডাক্টর,
(গ) সিরামিক কোর ইন্ডাক্টর,
(ঘ) মোল্ডেড ইন্ডাক্টর,
(ঙ) ফ্লিম ইন্ডাক্টর,
(চ) ভেরিয়েবল ইন্ডাক্টর।

ইন্ডাক্টরের ব্যবহার
১। ফিল্টার হিসেবে,
২। ইলেকট্রোম্যাগনেটে,
৩। স্বয়ংক্রিয় ইগনিশন কয়েলে,
৪। লাউডস্পিকারের অ্যাডজাস্টমেন্ট নেটওয়ার্কে।

আজ এপর্যন্তই, ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
সহযোগিতায় : বেসিক ইলেকট্রিসিটি ( টেকনিক্যাল এবং হক প্রকাশনী), ওয়েবসাইট

Post a Comment

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো