সেল বা বিদ্যুৎ কোষ । Basic Electricity Bangla
সেল বা বিদ্যুৎ কোষ । Basic Electricity Bangla
আজ আমরা আলোচনা করবো সেল বা বিদ্যুৎ কোষ নিয়ে। আলোচনা শেষে আমরা জানতে পারবো,
  • সেল কি
  • ব্যাটারী কি
  • সেল কি কি অংশ নিয়ে গঠিত
  • কয়েকপ্রকার সেলের গঠন উপাদান
  • সেলের শ্রেণিবিন্যাস
  • প্রাইমারী সেল কি
  • প্রাইমারী সেলের তালিকা
  • প্রাইমারী সেলের প্রকারভেদ
  • সেকেন্ডারী সেল
  • প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী সেলের মধ্যে পার্থক্য

সেল ː যে ডিভাইস বা যন্ত্র বা ইউনিটের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাকে সেল বা বৈদ্যুতিক সেল (Electric Cell) বলে। বিদ্যুৎ কোষ সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন ইটালীর বিজ্ঞানী আলেস্যানড্রো ভােল্টা (Volta)। তাহার নামানুসারে ইহাকে সরল ভোল্টার বিদ্যুৎ কোষও বলা হয়। সেল রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ই.এম.এফ (Electromotive force) উৎপন্ন করে এবং উক্ত ইএমএফ কোনাে কন্ডাকটর বা পরিবাহী বা লােডে প্রয়ােগ করলে এতে পটেনশিয়াল ডিফারেন্সের সৃষ্টি হয় এবং কারেন্ট প্রবাহিত হয়।

ব্যাটারী ː কোনো ইউনিট বা ডিভাইসে যখন একাধিক সেল গঠন করে পরস্পর সংযোগ দেওয়া হয় তাকে ব্যাটারি বলে।

সেলের বিভিন্ন অংশ
যেকোনাে বিদ্যুৎকোষ বা সেল নিম্নলিখিত অংশ নিয়ে গঠিত:
(১) পজেটিভ ইলেকট্রোড (Positive Electrode)
(২) নেগেটিভ ইলেকট্রোড (Negative Electrode)
(৩) ইলেকট্রোলাইট (Electrolyte)
(৪) একটি কাঁচ বা চীনামাটির পাত্র (A glass or Porecelain Basin)
(৫) ডিপােলারাইজার (Dipolariser)।

সেল বা বিদ্যুৎ কোষ । Basic Electricity Bangla

কয়েকপ্রকার সেলের গঠন উপাদান
নিচে কয়েকটি বিদ্যুৎকোষের ইলেকট্রোড, ইলেকট্রোলাইট ও ডিপোলারাইজারের তালিকা দেওয়া হলো:

    ভোল্টাইক সেল
পজেটিভ ইলেকট্রোড ː তামা
নেগেটিভ ইলেকট্রোড ː দস্তা
ইলেকট্রোলাইট ː পাতলা সালফিউরিক এসিড (H₂So₄)
ডিপোলারাইজার ː ম্যাংগানিজ ডাই অক্সাইড (MnO₂)

    লেকল্যান্স সেল
পজেটিভ ইলেকট্রোড ː কার্বন
নেগেটিভ ইলেকট্রোড ː দস্তা
ইলেকট্রোলাইট ː NH₄Cl দ্রবণ
ডিপোলারাইজার ː MnO₂

    ড্রাইসেল
পজেটিভ ইলেকট্রোড ː কার্বন
নেগেটিভ ইলেকট্রোড ː দস্তা
ইলেকট্রোলাইট ː NH₄Cl
ডিপোলারাইজার ː MnO₂

    ড্যানিয়েল সেল
পজেটিভ ইলেকট্রোড ː তামা
নেগেটিভ ইলেকট্রোড ː দস্তা
ইলেকট্রোলাইট ː CuSO₄ দ্রবণ
ডিপোলারাইজার ː MnO₂

    লিড অ্যাসিড সেল
পজেটিভ ইলেকট্রোড ː PbO₂
নেগেটিভ ইলেকট্রোড ː Pb
ইলেকট্রোলাইট ː H₂SO₄
ডিপোলারাইজার ː MnO₂

সেলের শ্রেণিবিন্যাস
বিদ্যুৎ কোষ মূলত দুই প্রকার। যথা-
(১) মৌলিক কোষ বা প্রাইমারী সেল (Primary cell),
(২) সঞ্চয়ী কোষ বা সেকেন্ডারী সেল (Secondary cell)।

মৌলিক কোষ বা প্রাইমারী সেল
যে সেল বিদ্যুৎ-রাসায়নিক বিক্রিয়ার সাহায্যে বৈদ্যুতিক কারেন্ট উৎপন্ন করে এবং কর্মক্ষমতা একবার নিঃশেষ (Discharge) হওয়ার পর পুনরায় কর্মক্ষম (Charge) করা যায় না, তাকে প্রাইমারী সেল বলে। একে মৌলিক কোষ, মুখ্য কোষ বা প্রাথমিক কোষও বলে।

প্রাইমারী সেলের তালিকা
(১) ভােল্টার বিদ্যুৎ কোষ (Voltaic Cell)
(২) লেকল্যান্স বিদ্যুৎ কোষ (Lechlance Cell)
(৩) ড্রাই সেল বা টর্চ সেল (Dry or Torch Cell)
(৪) বাইক্রোমেট বিদ্যুৎ কোষ (Bichromate Cell)
(৫) ড্যানিয়েল বিদ্যুৎ কোষ (Daniel Cell)
(৬) বুনসেন বিদ্যুৎ কোষ (Bunsen's Cell)
(৭) ওয়েস্টন ক্যাডমিয়াম বিদ্যুৎ কোষ (Weston-Cadmium Cell)
(৮) ল্যাটিমার ক্লার্ক বিদ্যুৎ কোষ (Latimar-Clark Cell).

সেল বা বিদ্যুৎ কোষ । Basic Electricity Bangla

প্রাইমারী সেলের প্রকারভেদ
প্রাইমারী সেল দুই প্রকার। যথা ː
(১) এক তরল কোষ (Single Fluid Cell),
(২) দুই তরল কোষ (Double Fluid Cell).

(১) এক তরল কোষ ː যে বিদ্যুৎ কোষে একটি মাত্র তরল পদার্থ ব্যবহার করা হয়, তাকে এক তরল কোষ বলে। যেমন: লেকল্যান্স কোষ, শুষ্ক কোষ, বাইক্রোমেট কোষ ইত্যাদি।

(২) দুই তরল কোষ ː যে বিদ্যুৎ কোষে দুইটি তরল পদার্থ ব্যবহার করা হয়, তাকে দুই তরল কোষ বলে। যেমন: ড্যানিয়েল কোষ, বুনসেন কোষ ইত্যাদি।

সঞ্চয়ী কোষ বা সেকেন্ডারী সেল
যে সেল বিদ্যুৎ-রাসায়নিক বিক্রিয়ার সাহায্যে বৈদ্যুতিক কারেন্ট উৎপন্ন করে এবং কর্মক্ষমতা একবার নিঃশেষ (Discharge) হওয়ার পর পুনরায় বৈদ্যুতিক কারেন্ট পাঠিয়ে কর্মক্ষম (Charge) করা যায়, তাকে সেকেন্ডারী সেল বলে। অন্যভাবে বলতে গেলে, যে বিদ্যুৎ কোষে বাহির হইতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করিয়া বিদ্যুৎ শক্তিকে শক্তিরূপে সঞ্চিত করিয়া রাখা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, উহাকে সেকেন্ডারী সেল বলে। একে গৌণ কোষ, সঞ্চয়ী কোষ বা সঞ্চায়কও বলে।

সেল বা বিদ্যুৎ কোষ । Basic Electricity Bangla

প্রাইমারী এবং সেকেন্ডারী সেলের মধ্যে পার্থক্য

প্রাইমারী সেল
১। যে সেল বিদ্যুৎ-রাসায়নিক বিক্রিয়ার সাহায্যে বৈদ্যুতিক কারেন্ট উৎপন্ন করে এবং কর্মক্ষমতা একবার নিঃশেষ (Discharge) হওয়ার পর পুনরায় কর্মক্ষম (Charge) করা যায় না, তাকে প্রাইমারী সেল বলে।
২। প্রাইমারী সেলে শুধুমাত্র রাসায়নিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরই সম্ভব।
৩। প্রাইমারী সেল একবার নিঃশেষ (Discharge) হলে, দস্তার পাত ও ইলেকট্রোলাইট পরিবর্তন করে আবার নতুন করে ব্যবহার করা যায়, যা ব্যয়বহুল ও ঝামেলাযুক্ত।
৪। প্রাইমারী সেল পুনর্ব্যবহারযোগ্য না হওয়ায়, এর ব্যবহার খুবই সীমিত।
৫। উদাহরণ হিসেবে ড্রাই সেল সাধারণত টর্চলাইট, রেডিও, খেলনা, ক্যালকুলেটর ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

সেকেন্ডারী সেল
১। যে সেল বিদ্যুৎ-রাসায়নিক বিক্রিয়ার সাহায্যে বৈদ্যুতিক কারেন্ট উৎপন্ন করে এবং কর্মক্ষমতা একবার নিঃশেষ (Discharge) হওয়ার পর পুনরায় বৈদ্যুতিক কারেন্ট পাঠিয়ে কর্মক্ষম (Charge) করা যায়, তাকে সেকেন্ডারী সেল বলে।
২। সেকেন্ডারী সেলে রাসায়নিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর (Discharge) ও বিদ্যুৎ শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর (Recharge) দুটিই সম্ভব।
৩। সেকেন্ডারী সেল একবার নিঃশেষ (Discharge) হলে, শুধুমাত্র কারেন্ট সরবরাহ করেই পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
৪। সেকেন্ডারী সেল পুনর্ব্যবহারযোগ্য হওয়ায়, বৃহৎ পরিসরে এর ব্যবহার দেখা যায়।
৫। উদাহরণ হিসেবে লিড-এসিড সেল বিভিন্ন ধরনের অটোমোবাইল, লাইট জ্বালানো, টেলিফোন, টেলিগ্রাফ ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

আজ এপর্যন্তই, ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
সহযোগিতায় : বেসিক ইলেকট্রিসিটি ( টেকনিক্যাল এবং হক প্রকাশনী), ওয়েবসাইট


Post a Comment

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো